১. ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আধুনিক ইতিহাস মূলত ২০ শতকের শুরু থেকে গড়ে ওঠে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সংঘাত আরও জটিল হয়। ভূখণ্ড, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, জেরুজালেমের মর্যাদা ও নিরাপত্তা—এসব বিষয় এখনো বিরোধের কেন্দ্র।

২. ভারত-পাকিস্তান ও কাশ্মীর সংঘাত

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের পর জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ শুরু হয়। এরপর একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত হয়েছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান এখনো ভিন্ন।

৩. কোরীয় উপদ্বীপের সংঘাত

১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।

৪. রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের সম্পর্কের বড় সংকট শুরু হয় ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে । ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের পর সংঘাত আরও বড় আকার নেয়।

৫. আফগানিস্তানের দীর্ঘ সংঘাত

আফগানিস্তানে ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আক্রমণ থেকে শুরু করে গৃহযুদ্ধ, তালেবানের উত্থান এবং ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান—বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ সংঘাত চলেছে।

৬. মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত

মিয়ানমারে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বহু দশক ধরে চলছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

কেন এসব সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়?

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পেছনে সাধারণত একাধিক কারণ কাজ করে। যেমন— ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ, রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, জাতিগত পরিচয়, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা সংকট এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস । কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে না চাইলে সংঘাত আরও দীর্ঘ হয়।

সংক্ষেপে, বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও সংঘাতগুলো শুধু সামরিক লড়াই নয়; এর সঙ্গে ইতিহাস, রাজনীতি, ভূখণ্ড ও মানুষের পরিচয়ের মতো জটিল বিষয় জড়িয়ে থাকে। তাই যুদ্ধ থামলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হলে সংঘাত আবারও ফিরে আসতে পারে।