সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ইউক্রেন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । স্বাধীনতার পর ইউক্রেন একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে থাকে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

২০১৪ সালে বড় সংঘাত

২০১৩-১৪ সালে ইউক্রেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং পরে গণভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটি রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয় । ইউক্রেন ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এই পদক্ষেপকে অবৈধ দখল হিসেবে বিবেচনা করে।

একই সময়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এলাকায় রাশিয়াপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সংঘাত শুরু হয়।

২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ

দীর্ঘ উত্তেজনার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে । রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তা, ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অভিযানের কারণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করে।

এরপর যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতের প্রভাব ইউরোপের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ে।