কী কারণে এই সময়কে স্বর্ণযুগ বলা হয়?

এই সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা মুক্তি পেতে থাকে। সামাজিক গল্প, পারিবারিক সম্পর্ক, প্রেম, গ্রামীণ জীবন ও মানুষের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমা দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সিনেমার গান, সংলাপ ও অ্যাকশনও দর্শকদের আকৃষ্ট করত।

এই সময়ের জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে ছিলেন শাবানা, ববিতা, আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, জসীম, রুবেল সহ অনেকে। তাঁদের অভিনয় ঢাকাই চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন দক্ষ পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ও সংগীতশিল্পীর কাজ চলচ্চিত্রের মান ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সিনেমা হল ছিল বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র

বর্তমানের মতো তখন ইউটিউব, ওটিটি কিংবা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ফলে নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল সিনেমা হল । ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তি পেত এবং অনেক সিনেমা দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলত।

সিনেমার গানও তখন ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। রেডিও, ক্যাসেট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের গান মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেত। ফলে সিনেমা শুধু প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের দৈনন্দিন সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল।

স্বর্ণযুগের সিনেমার বৈশিষ্ট্য

এই সময়ের সিনেমাগুলোতে বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তা, পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিক সম্পর্ক ও বাস্তব জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হতো। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য গান, রোমান্স, কমেডি ও অ্যাকশনের সমন্বয়ও দেখা যেত।

পরবর্তীতে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ভিডিও, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রসারের সঙ্গে দর্শকদের বিনোদনের ধরন বদলে যায়। এর প্রভাব পড়ে সিনেমা হল ও চলচ্চিত্র ব্যবসায়ও।

তবু ঢাকাই চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ হিসেবে ১৯৮০-এর দশক ও ১৯৯০-এর দশকের শুরুর সময় এখনও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। সেই সময়ের সিনেমা, গান ও তারকারা আজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে নস্টালজিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।