বাংলাদেশে সিনেমার শুরু কীভাবে?
বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের ইতিহাস মূলত ব্রিটিশ আমল থেকেই শুরু হয়। সে সময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিনেমা প্রদর্শনের আয়োজন করা হতো। তবে তখনও ঢাকায় নিজস্ব চলচ্চিত্র নির্মাণের মতো পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
১৯৫০-এর দশকে ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ আরও জোরালো হয়। পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানে একটি নিজস্ব চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিষ্ঠান ও স্টুডিও তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কোনটি?
বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে সাধারণভাবে ‘মুখ ও মুখোশ’ -কে উল্লেখ করা হয়। চলচ্চিত্রটি ১৯৫৬ সালে মুক্তি পায় এবং এটি ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে স্থানীয়ভাবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরির নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সিনেমাটিতে তৎকালীন সময়ের শিল্পী ও কলাকুশলীরা অংশ নেন।
‘মুখ ও মুখোশ’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
‘মুখ ও মুখোশ’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না; এটি ছিল স্থানীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ। এর আগে এই অঞ্চলের দর্শকদের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থাকলেও স্থানীয় শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীদের নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সিনেমার সাফল্যের পর ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে একের পর এক সিনেমা নির্মিত হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ঢাকাই চলচ্চিত্রের নিজস্ব পরিচয় তৈরি হয়।
এভাবেই গড়ে ওঠে ঢাকাই চলচ্চিত্র
‘মুখ ও মুখোশ’-এর পর পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ১৯৫৭ সালে ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (FDC) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে এ প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকাই চলচ্চিত্র নতুন পরিচয় পায়। মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ, সংস্কৃতি, প্রেম ও মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতা বাড়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে জহির রায়হান, খান আতাউর রহমানসহ অনেক নির্মাতা ও শিল্পীর অবদান উল্লেখযোগ্য।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
আজকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন, ডিজিটাল সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের কারণে চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরনও বদলেছে। তবে বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা, মুখ ও মুখোশ, ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর সময় নিয়ে আগ্রহ এখনও রয়েছে।
১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর মাধ্যমে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে বাংলাদেশের শক্তিশালী চলচ্চিত্র সংস্কৃতির ভিত্তি তৈরি করে। তাই বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে ‘মুখ ও মুখোশ’ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আজও স্মরণীয়।
