একটি সহজ উদাহরণ

ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায়। তারা একটি বন্ড ইস্যু করল, যার মেয়াদ ৫ বছর এবং নির্দিষ্ট হারে সুদ বা কুপন দেওয়া হবে।

আপনি সেই বন্ড কিনে প্রতিষ্ঠানটিকে টাকা দিলেন। এরপর বন্ডের শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনি সুদ বা কুপন আয় পাবেন। মেয়াদ শেষ হলে প্রতিষ্ঠানটি মূল বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা।

অর্থাৎ—

বিনিয়োগকারী → প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেয় → নির্দিষ্ট হারে আয় পায় → মেয়াদ শেষে মূল টাকা ফেরত পায়।

বন্ড থেকে কীভাবে আয় হয়?

বন্ডে সাধারণত কুপন বা সুদ থেকে আয় হয়। যেমন, ১ লাখ টাকার একটি বন্ডে বার্ষিক ৮ শতাংশ কুপন থাকলে বছরে ৮ হাজার টাকা আয় হতে পারে—তবে প্রকৃত পরিশোধের নিয়ম বন্ডের শর্তের ওপর নির্ভর করে।

কিছু বন্ডে নির্দিষ্ট হারে কুপন দেওয়া হয়, আবার কিছু বন্ডের সুদের হার পরিবর্তনশীল হতে পারে।

বন্ডের মেয়াদ

বন্ড সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইস্যু করা হয়। মেয়াদ হতে পারে কয়েক বছর বা তার বেশি। মেয়াদ শেষে বন্ডের শর্ত অনুযায়ী মূল টাকা বিনিয়োগকারীকে ফেরত দেওয়া হয়।

বন্ড ও শেয়ারের পার্থক্য

শেয়ার কিনলে আপনি কোম্পানির মালিকানার একটি অংশের মালিক হন।

অন্যদিকে বন্ড কিনলে আপনি মূলত সরকার বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা ধার দেন।

শেয়ারের দাম বাজারে দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। বন্ডে সাধারণত নির্ধারিত আয় পাওয়ার কাঠামো থাকে, তবে বন্ডও ঝুঁকিমুক্ত নয়।

বন্ডে কী ঝুঁকি আছে?

বন্ডে বিনিয়োগের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত দিতে কতটা সক্ষম । প্রতিষ্ঠান আর্থিক সমস্যায় পড়লে সুদ বা মূল টাকা পরিশোধে সমস্যা হতে পারে।

এ ছাড়া বাজারে সুদের হার পরিবর্তন হলে বন্ডের বাজারমূল্যও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু বেশি কুপন দেখেই বন্ড কেনা উচিত নয়।