একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন, একটি কোম্পানির মোট ১০ লাখ শেয়ার রয়েছে। আপনি সেই কোম্পানির ১ হাজার শেয়ার কিনলেন। অর্থাৎ কোম্পানির মালিকানার একটি ছোট অংশ আপনার হাতে চলে এলো।
কোম্পানির ব্যবসা ভালো করলে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। তখন আপনি বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে লাভ করতে পারেন। আবার ব্যবসা খারাপ হলে শেয়ারের দাম কমেও যেতে পারে। তখন বিনিয়োগকারীর লোকসান হতে পারে।
শেয়ারবাজারে কীভাবে বিনিয়োগ করা হয়?
বাংলাদেশে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে সাধারণত বিও (BO) অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হয়। এরপর ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা যায়।
শেয়ার কেনার আগে কোম্পানির ব্যবসা, আয়, মুনাফা, ঋণ, লভ্যাংশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
শেয়ার থেকে কীভাবে লাভ হয়?
শেয়ারবাজারে সাধারণত দুইভাবে লাভের সুযোগ থাকে।
শেয়ারের দাম বাড়লে: ১০০ টাকায় শেয়ার কিনে সেটি ১২০ টাকায় বিক্রি করলে প্রতি শেয়ারে ২০ টাকা মূলধনী লাভ হয়।
লভ্যাংশ: কোনো কোম্পানি মুনাফা করলে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের নগদ বা বোনাস শেয়ার হিসেবে লভ্যাংশ দিতে পারে।
তবে কোনো লাভই নিশ্চিত নয়।
নতুন বিনিয়োগকারীদের কী জানা দরকার?
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ মানেই দ্রুত টাকা দ্বিগুণ করা নয়। বাজারে শেয়ারের দাম বিভিন্ন কারণে ওঠানামা করে। কোম্পানির ব্যবসা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাজারের চাহিদা ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব—সবকিছুই শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টিপসের ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক তথ্য ও ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ করা।
শেয়ারবাজার = কোম্পানির মালিকানার অংশ কেনাবেচার বাজার।
এখানে লাভের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি লোকসানের ঝুঁকিও আছে। তাই নতুন বিনিয়োগকারীদের আগে শেয়ারবাজারের নিয়ম, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
