চেক কী?

চেক হলো ব্যাংক হিসাবধারীর দেওয়া একটি লিখিত নির্দেশ , যার মাধ্যমে তিনি তার ব্যাংককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।

চেকে সাধারণত তারিখ, প্রাপকের নাম, টাকার পরিমাণ, হিসাবধারীর স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। ব্যাংক চেকের তথ্য ও স্বাক্ষর যাচাই করে এবং নিয়ম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করে।

সহজভাবে বলা যায়—

হিসাবধারী → ব্যাংককে নির্দেশ → নির্দিষ্ট প্রাপককে টাকা প্রদান।

চেকের প্রধান ধরন

চেকের ব্যবহার ও নিরাপত্তার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চেক রয়েছে।

১. Bearer Cheque

Bearer Cheque বা বাহক চেক এমন চেক, যা সাধারণত চেকে উল্লেখিত বাহক ব্যাংকে উপস্থাপন করলে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে।

এই ধরনের চেকের ক্ষেত্রে চেকটি যার কাছে থাকে, সে অর্থ গ্রহণ করতে পারে। ফলে চেক হারিয়ে গেলে অন্য কেউ সেটি ব্যবহার করার ঝুঁকি থাকে।

২. Order Cheque

Order Cheque নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা হয়। সাধারণত চেকে উল্লেখিত প্রাপক বা তার অনুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকে।

এটি Bearer Cheque-এর তুলনায় বেশি নির্দিষ্ট প্রাপকভিত্তিক।

৩. Crossed Cheque

চেকের ওপর দুটি সমান্তরাল দাগ টানা থাকলে সেটিকে সাধারণভাবে Crossed Cheque বলা হয়।

এ ধরনের চেক সাধারণত সরাসরি নগদে ভাঙানো যায় না; ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রাপকের হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

Crossing চেকের নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪. Account Payee Cheque

চেকে “A/C Payee” বা Account Payee ধরনের নির্দেশ থাকলে অর্থ নির্দিষ্ট প্রাপকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।

এতে অন্য কারও হাতে চেক চলে গেলেও সরাসরি নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে।

ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নিরাপদে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের চেক ব্যবহার করা হয়।

৫. Self Cheque

চেকের Payee অংশে “Self” লেখা থাকলে সেটি সাধারণত হিসাবধারী নিজে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করেন।

ব্যাংক থেকে নিজের হিসাবের টাকা নগদে তুলতে Self Cheque ব্যবহার করা যায়।

৬. Post-Dated Cheque

যে চেকে ভবিষ্যতের কোনো তারিখ লেখা থাকে, তাকে Post-Dated Cheque বলা হয়।

যেমন, আজ ২৫ আগস্ট হলেও চেকে ৩০ আগস্ট তারিখ লেখা হলো। এটি নির্ধারিত তারিখের আগে সাধারণভাবে উপস্থাপন না করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হতে পারে।

৭. Stale Cheque

অনেক সময় নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে চেক আর ব্যাংকে গ্রহণযোগ্য থাকে না। তখন সেটিকে Stale Cheque বলা হয়।

বাংলাদেশে চেকের বৈধতার সময়সীমা ও গ্রহণযোগ্যতা ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়। তাই দীর্ঘ সময় চেক রেখে না দিয়ে যথাসময়ে ব্যাংকে উপস্থাপন করা ভালো।

চেক কীভাবে ব্যবহার করা হয়?

চেক ব্যবহার করতে প্রথমে ব্যাংক হিসাবধারী চেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করেন। এতে সাধারণত—

  • তারিখ
  • প্রাপকের নাম
  • টাকার অঙ্ক
  • কথায় টাকার পরিমাণ
  • হিসাবধারীর স্বাক্ষর

দেওয়া হয়।

এরপর প্রাপক চেকটি তার ব্যাংকে জমা দিতে পারেন অথবা ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী অর্থ গ্রহণ করতে পারেন।

চেক ডিজঅনার কী?

চেক জমা দেওয়ার পর ব্যাংক যদি কোনো কারণে অর্থ পরিশোধ করতে না পারে, তখন সেটি চেক ডিজঅনার বা Dishonoured Cheque হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর অন্যতম কারণ হতে পারে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা। তবে স্বাক্ষরের অমিল, চেকে ভুল তথ্য, তারিখসংক্রান্ত সমস্যা বা ব্যাংকের নির্ধারিত অন্য কোনো কারণেও চেক ফেরত যেতে পারে।

চেক ব্যবহারে সতর্কতা

চেক ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। চেকে ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না এবং স্বাক্ষর ব্যাংকের রেকর্ডের সঙ্গে মিলতে হবে। খালি বা অসম্পূর্ণ চেকে স্বাক্ষর করে অন্যের হাতে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

চেক হারিয়ে গেলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।