কে এই তরুণ অভিনেত্রী লাবণ্য চৌধুরী? - Daily Digantor

কে এই তরুণ অভিনেত্রী লাবণ্য চৌধুরী?

কে এই তরুণ অভিনেত্রী লাবণ্য চৌধুরী
—কে এই তরুণ অভিনেত্রী লাবণ্য চৌধুরী

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন তরুণ অভিনেত্রী লাবণ্য চৌধুরী। শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী এখন বড় পর্দার পাশাপাশি ওয়েব সিনেমা ও নাটকেও নিয়মিত কাজ করছেন। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় রুবি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসার পর তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন গতি এসেছে।

বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরু

লাবণ্য চৌধুরীর মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয় বেশ ছোট বয়সে। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং করেন। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান।

কৈশোরে ‘দেবী’‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। ছোট বয়সে পর্দায় পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে শিশুশিল্পী থেকে পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।

শিশুশিল্পী থেকে মূল চরিত্রে আসার সংগ্রাম

একজন শিশুশিল্পী যখন বড় হয়ে মূল চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন, তখন দর্শকের পুরোনো পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসা বেশ কঠিন। লাবণ্যের ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।

শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকার কারণে দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুনভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে তাঁকে অনেকটা সময় দিতে হয়েছে। মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের সক্ষমতার ওপর অন্যদের আস্থা তৈরি করাও ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

হুমায়ূন আহমেদের তিন গল্পে অভিনয়

লাবণ্য চৌধুরীর ক্যারিয়ারের বিশেষ একটি দিক হলো—তিনি হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত তিনটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন।

‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘দেবী’ এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’—এই তিন সিনেমায় হুমায়ূন আহমেদের গল্পের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। একজন তরুণ অভিনেত্রীর জন্য এমন তিনটি জনপ্রিয় সাহিত্যিক গল্পের চলচ্চিত্রায়ণে কাজ করার সুযোগকে নিজের সৌভাগ্য হিসেবেই দেখেন লাবণ্য।

তবে তাঁর একটি আক্ষেপও রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের সরাসরি নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পাননি তিনি। তাঁর মতে, কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের নির্দেশনায় অভিনয় করতে পারলে সেটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য আরও বড় অভিজ্ঞতা হতে পারত।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পর নতুন পরিচিতি

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় রুবি চরিত্রে অভিনয় করে লাবণ্য নতুন করে আলোচনায় আসেন। এরপর ওয়েব সিনেমা ‘মিশন ডিডিএলজে’-তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

নব্বইয়ের দশকের প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম দিয়া। চরিত্রটি চঞ্চল এবং নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক গল্পের প্রতি যার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

সিনেমার নামের কারণে বলিউডের জনপ্রিয় ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র সঙ্গে তুলনা তৈরি হলেও লাবণ্য জানিয়েছেন, শুধু ওই একটি সিনেমা নয়, নব্বইয়ের দশকের একাধিক চলচ্চিত্রের আবহ ও গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ‘মিশন ডিডিএলজে’ তৈরি করা হয়েছে।

একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না

লাবণ্যের অভিনয়জীবনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভিন্ন ধরনের চরিত্র এসেছে। ‘নকশীকাঁথার জমিন’-এর রাহেলার ছোটবেলা, ‘দেবী’-র রানুর ছোটবেলা এবং ‘প্রিয় সত্যজিৎ’-এর অপর্ণা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

ভবিষ্যতেও একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না এই অভিনেত্রী। দর্শক যেন তাঁকে বিভিন্ন গল্প ও ভিন্ন চরিত্রে দেখতে পান—এটাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

এবার নাটকেও বেশি কাজ করতে চান

সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টের পাশাপাশি এবার টেলিভিশন নাটকে আরও বেশি সময় দিতে চান লাবণ্য চৌধুরী। এর আগে পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে নাটকে তুলনামূলক কম কাজ করেছেন তিনি।

এখন সময়ের কিছুটা সুযোগ পাওয়ায় নাটকের ক্ষেত্রেও নিজের কাজের পরিধি বাড়াতে চান এই তরুণ অভিনেত্রী। অর্থাৎ সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট ও নাটক—তিন মাধ্যমেই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

লাবণ্য চৌধুরীর সামনে নতুন সম্ভাবনা

শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে যাত্রা শুরু করে এখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন লাবণ্য চৌধুরী। ছোট বয়সের পরিচিতি পেরিয়ে একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার যে সংগ্রাম, তাঁর ক্যারিয়ারে সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ এবং সিনেমা, ওয়েব ও নাটকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে লাবণ্য চৌধুরী আরও পরিচিত মুখ হয়ে উঠতে পারেন।